প্রধানমন্ত্রীকে দুই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। অনুষ্ঠানে দলের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে রয়েছে বলে স্মরণ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা। দলীয় আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দল টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে দলের ভেতরে ও বাইরে চলমান বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, শুধু বিরোধীরাই নয়, বরং দলের ভেতর থেকেও নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় শুভাকাঙ্ক্ষী সেজে থাকা কিছু মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও কথার কারণে সরকারের ভালো উদ্যোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দলীয় প্রধানকে এসব বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

তারেক রহমানের অতিরিক্ত উদার মানসিকতার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাজনীতিতে সব সময় এবং সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদারতা দেখানো ঠিক নয়। অনেক নেতাকর্মী সামনে একরকম আচরণ করলেও আড়ালে ভিন্ন অবস্থান নেন, যা দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। দু-একজন ব্যক্তির দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো দলের অর্জন ম্লান হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই দলের দুর্নাম ডেকে আনে এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

নেতার সঙ্গে বেঈমানি করাকে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, দলের ভেতর কোনো ধরনের অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের তথ্য পেলে তা যেন অবিলম্বে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়। নিজের রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বয়সের কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকা সম্ভব না হলেও আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *