ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ভিডিও ভাইরাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অত্যন্ত কাছাকাছি এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিছিলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজটি ইন্টারনেটে আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলের খুব কাছেই অবস্থান করা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন সংশয় তৈরি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সানি শাহের নেতৃত্বে এই মিছিলটি সংঘটিত হয়েছে। মিছিলকারীরা শহরের কাজীপাড়া মাহমুদ শাহ সড়ক এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রধান সড়ক টিএ রোড হয়ে সরাসরি সদর মডেল থানাসংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাদের হাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত একটি ব্যানার দেখা যায়, যেখানে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। এছাড়া ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে তারা রাজপথ দখলের হুংকারও দেন ভিডিওতে।

ভিডিওর দৃশ্যপট এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, ভোরের আলো ফোটার ঠিক পরপরই অত্যন্ত গোপনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি জেলায় এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোল্লা সালাউদ্দিন প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, থানার এত কাছে যখন এই মিছিল হচ্ছিল, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল। একইভাবে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, পুলিশ আগে থেকে তাদের জানালে তারা নিজেরাই এর যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং এর সত্যতা যাচাইয়ে কাজ শুরু করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রাকীব উর রাজা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আগে থেকে কোনো তথ্য জানত না। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বর্তমান সময়ের নাকি পুরনো, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পরেই কেবল এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *