শিক্ষার্থীদের আবাসন ও বৃত্তির টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত হস্তান্তরের জোরালো দাবিতে প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জকসুর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অস্থায়ী আবাসনের বরাদ্দকৃত অর্থ নয়-ছয় করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থায়ী আবাসনের নামে টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা আঁটছে প্রশাসন। পুরান ঢাকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও মানবেতর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা যখন কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছেন, তখন এমন চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। চলতি বছরের মধ্যেই কেরানীগঞ্জে অন্তত ষোলো শ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন সুবিধা চালুর জোর দাবি জানান তিনি।

আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয় এই কর্মসূচি থেকে। জকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তাঁর বক্তব্যে গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তচ্যুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শুধু প্রথম ধাপের কাজ নয়, বরং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের আবাসন বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কর্মসূচির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন এবং তাদের নায্য অধিকার আদায়ের পক্ষে আওয়াজ তোলেন। এছাড়া, বিগত দিনে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *