ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার

১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকریতে মৌখিক পরীক্ষার বা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, এই ধরনের নীতি গ্রহণের ফলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লবিং, স্বজনপ্রীতি এবং বিভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে। মূলত ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপটিকে তিনি একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দেশের পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি বিস্তারিত পোস্টে এই সংসদ সদস্য তার এই উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি ছিল লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং ভাইভার নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই যৌক্তিক দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের প্রকৃত মেধাবী প্রার্থীরা।

লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরও শুধুমাত্র ভাইভায় লবিং কিংবা অর্থের জোরে কোনো প্রার্থী পিছিয়ে পড়লে মেধাভিত্তিক নিয়োগের আর কোনো অর্থ থাকে না বলে তিনি পোস্টে মন্তব্য করেন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের চাকরিতে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার বিপরীতে ভাইভার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ নম্বর, ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে ৪০ নম্বর এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে ২৫ নম্বর। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়નને ইন্টারভিউ বোর্ডের ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা সাবজেক্টিভ মূল্যায়নের মাধ্যমে বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

লিখিত পরীক্ষা একটি বস্তুনিষ্ঠ বা অবজেক্টিভ প্রক্রিয়া হলেও ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবেই পরীক্ষকদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। ভাইভার নম্বর যত বেশি বাড়ানো হবে, ইন্টারভিউ বোর্ডের discretionary power বা স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ততটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার ক্ষেত্রে যদি পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা না থাকে, তবে তা পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক বিবেচনার পথকে আরও সুগম করবে।

সরকারি চাকরি কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর লোক নিয়োগের জায়গা হতে পারে না বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এই সংসদ সদস্য। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কমানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে যদি উল্টো পুরোনো সেই অস্বচ্ছ পথগুলো আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে তা দেশের তরুণ সমাজ ও বেকার যুবকদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। তাই নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *