তদন্তে ধীরগতি, জাবিতে ৯ মাস ধরে ঝুলে আছে চ্যান্সেলর কাপ ফাইনাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত ‘চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’-এর ফাইনাল ম্যাচ দীর্ঘ প্রায় নয় মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে রয়েছে। খেলা চলাকালীন একটি সেমিফাইনাল ম্যাচে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং এর জেরে গঠিত তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই অচলাवस्था তৈরি হয়েছে। অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আসরের এমন স্থবিরতা ক্যাম্পাসের ক্রীড়ামোদী শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের এই উদাসীন মনোভাবের জন্য টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক মাস আগে, যখন টুর্নামেন্টের একটি সেমিফাইনালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হল ও মওলানা ভাসানী হলের মধ্যকার খেলায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর আগেই অবশ্য অপর সেমিফাইনালে জয়লাভ করে ফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল। কিন্তু প্রথম সেমিফাইনালের অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় চূড়ান্ত ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ না হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হচ্ছেন ফাইনালে উন্নীত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের খেলোয়াড়রা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই হলের ক্রীড়া সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল জানান যে, তারা গত নয় মাস ধরে দফায় দফায় প্রশাসন ও শারীরিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাননি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাছাড়া তৎকালীন তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা জানান যে, তিনি তার অংশের মতামত আগেই জমা দিয়েছেন এবং বর্তমান প্রভোস্ট কমিটির প্রধান কিংবা উপ-উপাচার্য এই দেরির বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।

অন্যদিকে প্রশাসনিক রদবদলের কারণে তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম। তিনি জানান যে, তদন্ত ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রতিবেদনটি শারীরিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে যা খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক মো. আজমল আমীন জানিয়েছেন যে, প্রতিবেদনটি সবেমাত্র তাদের হাতে এসেছে এবং নিয়মভঙ্গের কারণে সেমিফাইনালের দুই দলকেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উপাচার্যের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই অপর finalist দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *