কুয়েত-বাহরাইনে হামলার হুমকি ইরানের, নাবিকদের জাহাজ ছাড়ার পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান বৈরিতা নতুন করে চরমে উঠেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যকার এই সংঘাত এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অবনতির দিকে যায়। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জলসীমায় এই হামলাগুলো পরিচালিত হওয়ার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

এই মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করে থাকা তেলের ট্যাংকারগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী। গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির মাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তায় এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে, সম্ভাব্য এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে এবং নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে ওইসব বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত সকল নাবিক ও ক্রুদের অবিলম্বে জলযানগুলো ত্যাগ করার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি স্থাপন এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরানের জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজে চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানে এই দুটি দেশ প্রত্যক্ষভাবে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করেছে বলেও জোরালো দাবি করেছে তেহরান। মূলত এই আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্যই উপসাগরীয় এই দুই দেশকে তেহরানের সরাসরি প্রতিশোধের নিশানা হতে হচ্ছে।

এর আগে দেশটির অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নোঙর এলাকায় অবস্থানরত একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পরেই দক্ষিণ ইরানের জাস্ক উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় আরও একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা পরিচালনা করে। যদিও এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি এবং সময়মতো নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবুও এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *