শ্রীলঙ্কায় আলু রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে যাবে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল

শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির পথ সুগম করতে এবং এর অপার সম্ভাবনা যাচাই করতে খুব শীঘ্রই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল দেশটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি কৃষি ও বাণিজ্য খাতের নীতির্ধারকদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। মূলত দেশের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়ে স্থানীয় বাজারের চাহিদা, গুণগত মানের মানদণ্ড এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের আলুর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থাকে। এমতাবস্থায় উৎপাদকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিসর আরও বৃদ্ধি পায়, সেজন্য সম্ভাবনাময় নতুন বাজারগুলোতে নজর দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় আলুর নিয়মিত চাহিদা রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তারা বিদেশ থেকে এই কৃষিপণ্য আমদানি করে থাকে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি আলু শ্রীলঙ্কার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কী ধরনের বাণিজ্যিক ও আইনি প্রক্রিয়া পার হতে হবে, তা সরেজমিন খতিয়ে দেখবে প্রতিনিধিদলটি।

এর আগে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সুনির্দিষ্ট খাত হিসেবে আলুকে প্রাধান্য দিয়ে এই বিশেষ মিশন পরিচালিত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। তারা শ্রীলঙ্কার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করবেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের আলু চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হবে। প্রতিনিধিদলটি শ্রীলঙ্কা সফর শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ মহলে জমা দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বর্তমান বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আলুর আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে এই সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *