ফোন-ল্যাপটপ বা গ্যাজেটে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন কেন থাকে জানেন?

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা চার্জারের গায়ে ডাস্টবিনের ছবির ওপর একটি মোটা ক্রসের চিহ্ন দেখা যায়। অনেকে এটিকে কেবল সাধারণ কোনো সতর্কতামূলক লোগো বা প্রতীক হিসেবে মনে করে থাকেন। কিন্তু গভীরভারে বিবেচনা করলে এই ছোট্ট চিহ্নটির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবেশগত বার্তা। মূলত কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেলে সেটিকে যত্রতত্র বা সাধারণ গৃহস্থালির আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া যাবে না, সেটিই এই প্রতীকের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রযুক্তির ভাষায় এই বিশেষ প্রতীকটিকে ডব্লিউইইই বা ওয়েস্ট ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট চিহ্ন বলা হয়ে থাকে। পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা যেকোনো বৈদ্যুতিক গ্যাজেট নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলোকে নির্দিষ্ট ই-বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার আওতায় জমা দিতে হবে। এ ধরনের যন্ত্রপাতির ভেতরে থাকা বিভিন্ন উপাদান সাধারণ বর্জ্যের মতো মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। তাই এগুলোকে নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আলাদা করে সংরক্ষণ করার কোনো বিকল্প নেই।

ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক, ধাতু এবং ব্যাটারির মতো উপাদান থাকে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ডিভাইসে সিসা, পারদ বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ও বিষাক্ত পদার্থও থাকতে পারে। এই সমস্ত বর্জ্য যদি অসতর্কভাবে ফেলা হয় বা ভুল পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হয়, তবে তা মাটি ও পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। ফলে মানবস্বাস্থ্য এবং সার্বিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হতে পারে, যা প্রতিরোধের জন্য এই প্রতীকটি ব্যবহার করা হয়।

একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার শেষ মানেই তার দায়িত্ব ফুরিয়ে যায় না। সঠিকভাবে এই ই-বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করা গেলে সেখান থেকে অনেক মূল্যবান উপাদান আলাদা করে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়। অনেক দেশে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা থাকলেও স্থানভেদে তার ভিন্নতা দেখা যায়। তাই পরবর্তী সময়ে গ্যাজেটে এই চিহ্নটি দেখলে সাধারণ আবর্জনায় না ফেলে বরং সেটির যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের কথা মাথায় রাখা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *