ফেসবুকে ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর’ চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে প্রতারণার ফাঁদ!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। ‘স্মার্ট এনার্জি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভার’ নামের ছোট্ট এই ডিভাইসগুলো বাসার যেকোনো বৈদ্যুতিক সকেটে লাগিয়ে রাখলেই প্রিপেইড বা পোস্টপেইড মিটারের খরচ ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে যাবে বলে দাবি করা হয়। মাত্র চার শ থেকে সাত শ টাকার মধ্যে পাওয়া এসব পণ্যের লোভে পড়ে অনেক সাধারণ গ্রাহকই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অথচ বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ডিভাইসের কার্যকারিতার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি প্রতারণামূলক কৌশল মাত্র।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেস্ট শপ, টু ইন শপ, অলিয়ন শপ কিংবা স্যালারি বিডি ডট কমের মতো অসংখ্য পেজ থেকে এই ভিত্তিহীন দাবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, ডিভাইসটি ভোল্টেজ স্থিতিশীল করার পাশাপাশি শর্ট সার্কিট থেকে সুরক্ষা দেয় এবং কোনো ধরনের আলাদা সংযোগ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক খরচ কমায়। তবে এগুলোর সপক্ষে কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগার বা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন বা সদনপত্র নেই। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তাকে পুঁজি করেই এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব কিলোওয়াট-আওয়ার বা ইউনিটের ওপর নির্ভর করে, যা কোনো সাধারণ প্লাগ-ইন ডিভাইসের মাধ্যমে কমানো সম্ভব নয়। মূলত শিল্পকারখানায় ‘পাওয়ার ফ্যাক্টর’ সংশোধনের জন্য ক্যাপাসিটর ব্যবহারের প্রযুক্তি থাকলেও, তা দিয়ে সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের মাসিক বিল এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষণেও এই ধরনের পাওয়ার সেভারকে অকার্যকর এবং বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাজারে বিক্রি হওয়া এসব কম দামি ও নিম্নমানের ডিভাইস সার্বক্ষণিক সকেটে যুক্ত রাখলে বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকি ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন যে, বিল কমানোর একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায় হলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়া এবং সচেতনভাবে তা ব্যবহার করা। অপ্রয়োজনে বাতি ও ফ্যান বন্ধ রাখা, এসির তাপমাত্রা পঁচিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বা তার ওপরে রাখা এবং শক্তির অপচয় রোধ করাই হলো সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। কোনো ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হয়ে বরং মিটার বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে অবৈধ কোনো উপায় অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সাধারণ মানুষকে এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে এবং ভুয়া বিজ্ঞাপনগুলো সরাতে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *