শীতলক্ষ্যায় তলিয়ে যাওয়া একজনকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ ৪

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে এক নারীসহ মোট চারজন নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চরলাখপুর এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে আনে। স্বজনদের বেড়াতে আসার আনন্দময় মুহূর্তটি কিছুক্ষণের মধ্যেই এক গভীর বিষাদে রূপ নেয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে মজিবুর শেখের বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ছোট মেয়ে শান্তা গোসল করার উদ্দেশ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানিতে নামেন। হঠাৎ করে তিনি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে তাকে বাঁচানোর আকুল প্রচেষ্টা শুরু হয়। তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় তরুণরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতা বা অন্য কোনো কারণে তারা নিজেরাই বিপদে পড়েন এবং একে একে তলিয়ে যান।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মজিবুর শেখের ছোট মেয়ে শান্তা, তার বড় মেয়ের জামাই ওবাইদুল্লাহ, নাতি শান্ত এবং স্থানীয় কিশোর সৌরভ যিনি তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে নিখোঁজদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন কিন্তু নদীতে স্রোত ও গভীরতার কারণে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও থানায় খবর পাঠালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসায় এবং নদীর গভীরতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রথম দিনে কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে প্রথম দিনের অভিযানে কোনো সফলতা না মিললেও নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা বন্ধ রাখা হয়নি। অন্ধকার এবং রাতের বেলা উদ্ধার কাজের ঝুঁকির কারণে অভিযান সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে এবং ঢাকা থেকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল আসার পর পুনরায় তল্লাশি শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আহাজারিতে বর্তমানে ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে এবং সবাই anxiously অপেক্ষায় আছেন সুসংবাদের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *