মিষ্টিতে পোকা দেখিয়ে দোকানির কাছে আইফোন দাবি কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে বর্তমানে বহু মানুষ খাবার গ্রহণের পূর্বে বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও বা ভ্লগ দেখে থাকেন, যা রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের ব্যবসায়িক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সম্প্রতি এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রভাবকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকায় এক দম্পতির বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক মিষ্টির ব্যবসায়ী। তার দাবি, ওই ভ্লগার দম্পতি অসৎ উদ্দেশ্যে মিষ্টির ভেতর ইচ্ছাকৃতভাবে পোকা দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ এবং দামি মুঠোফোন দাবি করেছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হাবড়ার প্রফুল্লনগর এলাকার শ্রীকৃষ্ণ সুইটস নামের একটি মিষ্টির দোকানে এই ঘটনা ঘটে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে সহেলি দে সূত্রধর ও তার স্বামী সুব্রত দে নামের ওই ভ্লগার দম্পতি দোকানে আসেন এবং খাবার সময় মিষ্টিতে পোকা পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দোকানমালিকের সঙ্গে তাদের তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে বিকেলে দোকানমালিক নয়ন ঘোষের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পোকাযুক্ত মিষ্টির ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন তারা।

দোকানমালিক নয়ন ঘোষের অভিযোগ, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে দফায় দফায় মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করার নির্দেশও দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে দোকানমালিক তাদের বাড়িতে গেলে ভ্লগার দম্পতি শর্ত দেন যে, একটি নতুন আইফোন এবং নগদ অর্থ প্রদান করলেই কেবল অনলাইনে সেই ভিডিও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন তারা। দোকানির দৃঢ় বিশ্বাস, তাদের ব্যবসা ধ্বংস করতে এবং অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে সুপরিকল্পিতভাবে মিষ্টিতে পোকা ঢুকিয়ে এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল।

নিজের কারখানার পরিচ্ছন্নতা ও মান নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে অভিযুক্ত দোকানি জানান, তাদের মিষ্টি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় এবং খাদ্য নিরাপত্তার সকল নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়। তাই উৎপাদিত মিষ্টিতে প্রাকৃতিকভাবে পোকা থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেন তিনি। নিজের দীর্ঘদিনের ব্যবসা এবং সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার এমন অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।

দোকানমালিকের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ভ্লগার দম্পতিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানির সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *