বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার

ডেনমার্কের রেবিল্ড এলাকায় সম্প্রতি এক বাড়ির মালিক সাধারণ মাটি খোঁড়ার কাজ করার সময় ইতিহাসের এক অদ্ভুত আবিষ্কারের মুখোমুখি হন। নিজের পেছনের বাগানে টেরেস তৈরির উদ্দেশ্যে মাটি সরাচ্ছিলেন তিনি, আর তখনই তার নজরে আসে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন কিছু ধাতব বস্তু। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে খবর দেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে খননকাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে অগভীর মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই নিদর্শনগুলো যে সাধারণ কিছু নয়, তা খননকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, এই ভাণ্ডারটি ডেনমার্কে আবিষ্কৃত ভাইকিং যুগের অন্যতম বৃহৎ রৌপ্যভাণ্ডার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় সাত শটি রুপার তৈরি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ওজন প্রায় সাড়ে আঠারো কেজি। এই বিপুল সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রুপার দণ্ড, প্রাচীন অলংকার, ঐতিহাসিক মুদ্রা এবং ভাইকিং সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত থরের হাতুড়ির আকৃতির একটি ক্ষুদ্র নিদর্শণ। একসঙ্গে এত বিশাল পরিমাণ প্রাচীন রুপার সামগ্রী পাওয়ার ঘটনা সে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রায় এক হাজার বছর আগের ভাইকিং আমলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। শত শত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার পরও এর অনেকগুলো বেশ ভালো অবস্থায় টিকে রয়েছে, যা ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। প্রাচীন ভাইকিংদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রুপার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং ইউরোপজুড়ে তাদের বাণিজ্য প্রসারের ইতিহাস এই আবিষ্কারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা এসব মুদ্রা ও সামগ্রী থেকে তাদের জীবনযাত্রা ও ভ্রমণপিপাসু সংস্কৃতির বহুমুখী পরিচয় পাওয়া যায়।

এই অমূল্য রৌপ্যভাণ্ডারটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয়েছিল, তা উদঘাটনে এখন গভীর গবেষণা চালাচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। সাধারণ একজন বাড়ির মালিকের দৈনন্দিন মাটি খোঁড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ঘটনাটি এখন ভাইকিং যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায় উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই নিদর্শনগুলো নিয়ে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের পর ডেনমার্কের প্রাচীন ইতিহাস এবং সে সময়ের মানুষের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে আরও অজানা তথ্য জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *