সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের পর মৃতদেহও ফেরত পাচ্ছে না প্রবাসীদের পরিবার

বিশ্বের যেসব রাষ্ট্রে সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বিচারিক ব্যবস্থায় নানা সময়ে বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের এই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে যত মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তার একটি বিশাল অংশই প্রবাসী বা ভিনদেশি নাগরিক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় চল্লিশ শতাংশের বেশি মানুষই বিদেশি। বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের সন্ধানে বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে পাড়ি জমানো প্রবাসীরা নানা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে এই চরম পরিণতির শিকার হন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগও পান না।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর তাদের মৃতদেহ সাধারণত নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। সৌদির প্রচলিত নিয়ম ও ব্যবস্থার কারণে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার বা নিজ দেশে দাফন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে বিদেশে থাকা স্বজনদের আকস্মিক মৃত্যুর পাশাপাশি মৃতদেহ না পাওয়ার বেদনা পরিবারগুলোর কষ্ট বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের চর্চার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং মৃতদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এই বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কঠোর নীতি ও গোপনীয়তার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে না। ফলে প্রবাসীদের জীবনের ঝুঁকি এবং তাদের আইনি অধিকারের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক মহলে বারবার আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *