আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ তিন সংগঠনেরই সভাপতি-সেক্রেটারির ফাঁসির আদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সম্মানিত সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলার একটি বড় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচারিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। এছাড়া সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বেরও একই শাস্তি হয়েছে, যার মধ্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল রয়েছেন। এর পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে ক্রমানুসারে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও একই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল।

বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় আদালত উল্লেখ করেন যে এই মামলার আসামিরা সকলেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং আইন অনুযায়ী তাদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে। গত বছর সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর আগে একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া সেই একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

এসব ধারাবাহিক রায়ের ফলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব প্রধান নেতার বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করা হলো। রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রায়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে পলাতক আসামিরা আইনের মুখোমুখি হলে বা তাদের পাকড়াও করা গেলে আদালতের এই রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে সামগ্রিক বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *