ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে সংঘটিত এই আকস্মিক বিস্ফোরণগুলোর পর পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টরদের পাঠানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতে যারা শিক্ষাঙ্গনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সাধারণ ছাত্র-জনতা তাদেরকে আগেই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে। তাদের দাবি, এখনো বিভিন্ন হলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কিছু কর্মী ছদ্মবেশে অবস্থান করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এই লুকিয়ে থাকা চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান ছাত্রদল নেতারা।

এদিকে, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও নিরাপদ পরিবেশের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে আরেকটি ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা, ছদ্মবেশী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান তারা। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর জানিয়েছেন, ঘটনার পর হলের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *