বর্ষায় প্রাণ, বাকি আট মাসে দূষণের বিষে বুড়িগঙ্গা

ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বুড়িগঙ্গা নদী দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক পরিবেশগত সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। একসময় এই নদীটি রাজধানী ঢাকার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো এবং একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এখানকার প্রধান সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কিন্তু বর্তমানে চরম দূষণের কারণে নদীটির স্বাভাবিক স্রোত এবং পানির গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর দূষণের মাত্রা চরম রূপ ধারণ করে। বছরের প্রায় আট মাস জুড়ে শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং গৃহস্থালীর অপরিশোধিত আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে এর পানি সম্পূর্ণ বিষাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির প্রবাহ এবং তীব্র স্রোতের কারণে বুড়িগঙ্গা কিছুটা স্বস্তি পায়। এই সময়ে নদীর পানির দূষণ কিছুটা কমে আসলেও তা কেবলই সাময়িক। বর্ষার এই প্রমত্ত রূপ স্থায়ী হয় না বললেই চলে এবং বর্ষা শেষ হলেই নদীটি তার আগের বিষাক্ত ও মৃতপ্রায় অবস্থায় ফিরে যায়।

এই দীর্ঘমেয়াদী দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশবাদীরা বারবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছেন। নদী বাঁচাতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে তদারকি করার বিকল্প নেই। বুড়িগঙ্গাকে তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে হলে কেবল বর্ষার প্রাকৃতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে স্থায়ী ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *