পিরোজপুরে ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

পিরোজপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতের কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। জেলার বিশালসংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো শূন্য থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজকর্মে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার পাঁচ শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন না হওয়ায় নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভিন্ন উপায়ে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবেলায় বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষককে যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়, তখন তাকে একই সঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঠিক পরিচালনার জন্য প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের চাপে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনেক সময়ই পাঠদানের চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই অতি দ্রুত এসব শূন্য পদে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *