চুরির অভিযোগে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হল রোড সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও এর আশেপাশের নিরাপত্তা নিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে তার বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সহপাঠী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই রাতের আধারে ওই যুবকের ওপর চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে হামলাকারীদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে, যার ফলে এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *