‎উন্নত প্রযুক্তির নামে গ্রাহকের পকেট কাটছে প্রিপেইড মিটার

বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির নামে প্রিপেইড মিটার স্থাপন। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে এই বিতর্কিত ও কষ্টদায়ক প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বাতিলের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রতিরোধ কমিটি এবং বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি যৌথভাবে এই কর্মসূচি ও আন্দোলন পরিচালনা করছে।

সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এই মিটার চালুর ফলে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত খরচের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো ধরনের জনমত যাচাই বা গ্রাহকদের প্রস্তুতি ছাড়াই এক প্রকার জোরপূর্বক এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি এবং রিচার্জ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গ্রাহকদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় হঠাৎ করেই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন ভোক্তারা। এসব নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল, যা এখন সংঘবদ্ধ আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে তারা বৃহত্তর পরিসরে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অবিলম্বে এসব মিটার অপসারণ করে আগের স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তারা সরকারের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *