অপ্রতিমের রক্তাক্ত দেহ, রাষ্ট্র কতটা সজাগ?

মায়ের কাছ থেকে একটি আইফোন ধার নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল মাত্র তেরো বছর বয়সী এক কিশোর। স্বাভাবিক একটি বিকেল শেষে অন্যান্য দিনের মতো তার নিজের ঠিকানায় ফিরে আসার কথা ছিল সবার সঙ্গেই। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নির্ধারিত সেই গোধূলি পেরিয়ে গেলেও অপ্রতিম নামের এই শিশুটি আর নিজালয়ে ফিরে আসেনি।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে থাকেন। দীর্ঘ প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার নিথর ও রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কৈশোরের গণ্ডি পার না হওয়া একটি শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে দেখে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। একটি মোবাইল ফোন বা শখের বস্তু কেড়ে নেওয়ার জন্য এত বড় নৃশংসতা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে এখন নানা মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন নাগরিকরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে। নৃশংস এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বসাধারণের মনে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *