শেখ সোলায়মানের ‘মানব জীবন’

গ্রামের সরু আলপথ কিংবা নদীর শান্ত তীরে বাঁশি বাজিয়ে মুগ্ধতা ছড়ানোর অনন্য প্রতিভাধর মানুষ শেখ সোলাইমান। তার হাতের বাঁশির জাদুকরী সুর গ্রামীণ গণ্ডি পেরিয়ে এখন পৌঁছে গেছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির এই নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী তার মনোমুগ্ধকর সুরের জাদুতে জয় করে চলেছেন অসংখ্য মানুষের মন।

সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শেখ সোলাইমানের বাঁশির প্রতিটি ফুঁয়ে যেন প্রাণ পায় বাংলার নিসর্গ। শৈশব থেকেই সুরের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তিনি বাঁশিকে নিজের আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় তার এই সাধনা ও প্রতিভা স্থানীয় পর্যায় থেকে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।

বর্তমানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মে শেখ সোলাইমানের বাঁশিবাদন শ্রোতাদের মাঝে এক বিশেষ আমেজ তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পরিবেশনা প্রচার হওয়ার পর থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি শ্রোতাদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে শেখ সোলাইমানের মতো শিল্পীদের অবদান অনস্বীকার্য ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের শিল্পসত্তাকে ধরে রেখে আজ বিশ্বজুড়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন। তার এই সুদীর্ঘ পথচলা আগামী প্রজন্মের লোকশিল্পীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *