সংবিধান সংশোধনে ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ লঙ্ঘনের ঝুঁকি, আদালতে বাতিল হতে পারে: শিশির মনির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করার প্রক্রিয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কেবল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির সম্প্রতি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, যথাযথ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে সেই সংশোধনী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তা বাতিলও হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আইনজীবী শিশির মনির বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনলে তা বিচার বিভাগের মুখোমুখি হতে পারে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বা পরবর্তীতে সংসদের মাধ্যমে সংবিধানে যে পরিবর্তনই আনা হোক না কেন, তা যেন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তার এই সতর্কবার্তা দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় গভীর আইনি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বা বিশেষ প্রয়োজনে করা অনেক সাংবিধানিক সংশোধনী পরবর্তীকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে দীর্ঘমেয়াদি সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তা যেন কোনোভাবেই আইনি মারপ্যাঁচে আটকে না যায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বিশেষ নজর দিতে হবে। কোনো রকম তড়িঘড়ি বা দীর্ঘমেয়াদি আইনি স্থায়িত্বের কথা না ভেবে সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে আবারও সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সংবিধান সংশোধনের এই পুরো প্রক্রিয়ায় দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনবিদ এবং সব অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এই আইনজীবী। কেবল সংখ্যাগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেই সংবিধানের মতো একটি মৌলিক দলিল পরিবর্তন না করে, এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি ও আইনি বৈধতা বিচার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার এই পর্যবেক্ষণ দেশের বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *