জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুকে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের সার্বিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন তিনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি তার বক্তব্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ নিজ ভূখণ্ডে বিশাল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। তবে এই সংকটের দীর্ঘসূত্রিতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। তাই জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জোরালো দাবি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করবেন সরকারপ্রধান।

অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অগ্রভাগে থাকা বাংলাদেশের জন্য পরিবেশগত সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ের ক্ষেত্রেও এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এই প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *