নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে চান জনপ্রিয় ব্যতিক্রমী দম্পতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ হান্না ও শেন বারকো দম্পতি নিজেদের ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার জন্য প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। হান্নার স্বামী শেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ায় এই দম্পতির দাম্পত্য জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। ইউটিউবে ‘স্কুইরমি অ্যান্ড গ্রাবস’ নামের চ্যানেল পরিচালনা করে তারা বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি এই জনপ্রিয় দম্পতি তাদের প্রথম সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় থাকার সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তবে অনাগত সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনা বেশ সুনির্দিষ্ট এবং তারা এখন থেকেই সন্তানের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে দারুণ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সন্তান সম্ভোগের বিষয়টি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সবার অগোচরে রেখেছিলেন এই দম্পতি। সম্প্রতি মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য পিপল-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, গর্ভধারণের প্রায় পাঁচ মাস পর গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুসংবাদটি প্রকাশ্যে এনেছেন। ভিডিও বার্তায় শেন জানিয়েছেন যে, জীবনের এই বিশেষ ও ব্যক্তিগত আনন্দঘন সময়টি তারা প্রথমে নিজেদের মতো করে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। মূলত অনলাইনের নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং অবাঞ্ছিত মন্তব্য এড়াতেই তারা এই খবরটি কিছু দিন জনসমক্ষে আনা থেকে বিরত ছিলেন। স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত শেন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, অনেকে হয়তো তার প্রতিবন্ধিতাকে কেন্দ্র করে তাকে বাবা হওয়ার অযোগ্য বলে কটূক্তি করতে পারেন।

অনাগত সন্তানের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি এই দম্পতির কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। শেনের মতে, তাদের সন্তান এখনো এতটুকু বড় হয়নি যে সে নিজে ইন্টারনেটে তার তথ্য প্রকাশের বিষয়ে কোনো সম্মতি জানাতে পারবে। তাই দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে হান্না ও শেন নিজেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে চান এবং সন্তানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। হান্নাও একই সুরে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবসময় সবার জন্য নিরাপদ বা ইতিবাচক জায়গা নয়। তারা নিজেরা পাবলিক ফিগার হিসেবে যেকোনো সমালোচনার মুখোমুখি হতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও, কোনোভাবেই তাদের অবারিত জীবনযাত্রার বলি বানাতে চান না নিরীহ সন্তানকে।

এর আগেও এই দম্পতিকে অনলাইনে নানা ধরনের অযাচিত মন্তব্য ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীতে তোলা ছবি নিয়ে হান্নার খাওয়া-দাওয়া বা জীবনযাপন নিয়েও তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন ট্রলকারীরা। তবে এসব নেতিবাচক বিষয়কে এখন আর বিশেষ পাত্তা দেন না হান্না ও শেন। তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তারা বুঝেছেন যে মানুষের এসব মতামত সাময়িক বিরক্তির কারণ হলেও বাস্তব জীবনে এর কোনো প্রভাব নেই। সন্তানের আগমনের এই আনন্দময় মুহূর্তে তারা সমস্ত নেতিবাচকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *