রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ‘ডিজে পার্টি’, আড়ালে চলে মাদক কেনাবেচা

গাজীপুর জেলার একটি নিভৃত রিসোর্টে সম্প্রতি চোখ ধাঁধানো এক ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। বাহ্যিক দিক থেকে এটি সাধারণ তরুণ-তরুণীদের একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বলে মনে হলেও এর পেছনে ভিন্ন এক উদ্দেশ্য কাজ করছিল। মূলত আনন্দ-উল্লাসের এই আসরকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে জমজমাট মাদক কেনাবেচা চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বেশ সুকৌশলে এই গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে টিকিটের চড়া মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ডিজে পার্টিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক অতিথিদের জনপ্রতি ছয় থেকে বারো হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। টিকিটের এই চড়া দামের কারণে সমাজের একটি নির্দিষ্ট ও বিত্তশালী শ্রেণির তরুণ-তরুণীরাই মূলত এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আয়োজকরা টিকিটের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নানা ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমের প্রসার ঘটাচ্ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই আয়োজনের পেছনের রমরমা অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আসে। সাধারণত এ ধরনের রিসোর্টভিত্তিক গোপন পার্টিগুলোতে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে থাকে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রিসোর্টগুলোকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ রুট বা আখড়া হিসেবে বেছে নিচ্ছে একটি চক্র। রিসোর্টের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় প্রভাবশালী কোনো মহলের যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ধরনের ঘটনাগুলো বর্তমান তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রিসোর্ট কেন্দ্রিক এ ধরনের অবৈধ ডিজে পার্টি এবং মাদক ব্যবসার উৎস উদঘাটনে তৎপরতা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে রিসোর্টগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *