বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে ওই শিশুর পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম মুসলিমা, সে স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম শেখের মেয়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল শিশু মুসলিমা। হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের পাড়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। পরে কাছে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করা হয় যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রিয় সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা হত্যাকারী সন্দেহে স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে এবং এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর এবং তার দুই ছেলে রমজান ও আব্দুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং কারণ উদঘাটনের জন্য নিবিড় তদন্ত চলছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *