দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে

মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত বা প্রার্থনা করার জন্য আরবি ভাষা জানা কি বাধ্যতামূলক, এই প্রশ্নটি প্রায়ই সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দেয়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্রষ্টার কাছে মনের আকুতি প্রকাশ বা দোয়া করার ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়া আবশ্যক নয়। বান্দা যেকোনো ভাষা বা বুলিতে তার প্রার্থনা নিবেদন করতে পারে এবং সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা সব ভাষাভাষীর মানুষের মনের কথা সমানভাবে বুঝতে পারেন।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি পণ্ডিতরা জানিয়েছেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের বাহ্যিক ভাষার চেয়ে তার অন্তরের ইখলাস বা ঐকান্তিকতাকে বেশি মূল্যায়ন করেন। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ বান্দার মনের ভাষা ও গোপন কথাও অত্যন্ত ভালোভাবে জানেন। তাই কেউ যদি নিজের মাতৃভাষায় অত্যন্ত বিনম্রচিত্তে ও ভক্তিভরে দোয়া করেন, তবে সেই দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হতে কোনো বাধা নেই।

অবশ্য সালাত বা নামাজের ভেতরে নির্দিষ্ট কিছু দোয়া এবং জিকির শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী আরবিতেই আদায় করতে হয়। নামাজের বাইরের ব্যক্তিগত মোনাজাত বা ফরিয়াদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা একেবারেই নেই, বরং নিজ ভাষায় দোয়া করলে প্রার্থনা আরও বেশি হৃদয়গ্রাহী ও অর্থবহ হয়। মাতৃভাষায় দোয়া করার ফলে বান্দা তার চাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে, যা প্রার্থনায় একাগ্রতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা মূল নির্যাস, যেখানে বান্দা তার অক্ষমতা স্বীকার করে কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তাই ভাষা কোনো বড় বাধা নয়, বরং প্রার্থনাটি কতখানি আন্তরিক ও পরিশুদ্ধ সেটাই মূল বিষয়। নিজ ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যে মনের সব আকুতি আল্লাহর কাছে তুলে ধরা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বহুলাংশে ফলপ্রসূ বলে মনে করেন আলেম সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *