নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রশ্নে রুল

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর জন্য ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনপ্রতিনিধিদের মাদকমুক্ত রাখা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনটির পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী ইসরাত জাহান। শুনানিকালে তিনি আদালতকে জানান যে, সাধারণ একজন করদাতা হিসেবে তিনি এমন কোনো ব্যক্তিকে নিজের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান না যিনি মাদকাসক্ত। দেশ ও জাতির নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং মাদকমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি যুক্তি তুলে ধরেন।

আইনজীবী ইসরাত জাহান আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজের সর্বস্তরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি এতদিন উপেক্ষিত ছিল। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা সমাজের নেতৃত্ব দেবেন, তাই তাঁদের চারিত্রিক ও শারীরিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সবার আগে নিশ্চিত করা উচিত। ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযান আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপ দেশের নির্বাচনী সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি দূরদর্শী মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *