বিতর্কের মুখে ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব কমিটি বিলুপ্ত

বিভিন্ন বিতর্ক ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার অধীনস্থ সাতটি ইউনিয়নের নবগঠিত নতুন কমিটিগুলোও সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছে জেলা ছাত্রলীগ। সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মূল কমিটির পাশাপাশি তৃণমূলের কমিটিগুলো একসঙ্গে বাতিল হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মূলত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে সলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, পাকশী, সাঁড়া, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নের সম্প্রতি গঠিত কমিটিগুলোও বিলুপ্ত করা হয়। তবে এই ইউনিয়ন কমিটিগুলো বাতিলের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ সরাসরি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ওই সাতটি ইউনিয়নে নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের স্থানীয় বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল, নবগঠিত এসব কমিটিতে বিবাহিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এর পরিবর্তে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন তীব্র বিতর্কের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা কমিটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বিতর্কিত এসব কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব না থাকায় সাংগঠনিক নিয়ম মেনে নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করেই কমিটিগুলো দেওয়া হয়েছিল। তবে কী কারণে জেলা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিল তা তার বোধগম্য নয় এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিকুর রহমান রাভা সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জেলা কমিটির নির্দেশনা পালনে ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাদের চরম সমন্বয়হীনতা ছিল। কমিটিতে বিবাহিতদের ঠাঁই দেওয়া এবং যোগ্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজপথের পরীক্ষিত ও যোগ্য মুখগুলোকে নিয়ে ঈশ্বরদীতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *