শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতকে চিঠি, অস্থিতিশীলতা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি সংস্কৃতিমন্ত্রীর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সম্প্রতি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার স্থানীয় নোমানী ময়দানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার পরিবার এবং আওয়ামী লীগ একটি পলাতক শক্তিতে রূপ নিয়েছে এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, পলাতক এই শক্তি যদি দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তবে বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। মাগুরা জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন।

মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল। আমন্ত্রিত অতিথিরা গ্রামীণ ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারের পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ খেলাধুলা পুনরুদ্ধারে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাটিয়ালি, বাউল, জারি, সারি, মুর্শিদি, লালনগীতি ও ভাওয়াইয়ার পাশাপাশি কাবাডি, লাঠিখেলা, নৌকাবাইচ ও দাঁড়িয়াবান্ধার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বাঙালির এই গর্ব ও অহংকারকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ফিরিয়ে আনতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা প্রয়োজন।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে মোট আটটি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং উদ্বোধনী ম্যাচে শালিখা কাবাডি একাদশ ও মোহাম্মদপুর কাবাডি একাদশ পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এছাড়া খেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে সংস্কৃতিমন্ত্রী নোমানী ময়দানের উত্তর পাশে নবনির্মিত মাগুরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *