গাজা-ইয়েমেনসহ ১২ সংকটে জাতিসংঘের ১৬ কোটি ডলার সহায়তা

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে মারাত্মক অর্থসংকটে থাকা ১২টি মানবিক সংকটে জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতে ১৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তহবিল থেকে এই আর্থিক সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকটের গভীরতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সীমিত তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকটের শিকার প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। বরাদ্দের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ১৫ কোটি ডলার সরাসরি ব্যয় হবে আফগানিস্তান, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, চাদ, কিউবা, মালি, নাইজার, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং ইয়েমেনের মতো অত্যন্ত নাজুক অঞ্চলগুলোতে। এসব অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করাই এই তহবিলের প্রধান লক্ষ্য।

এই সহায়তা ঘোষণার সময় জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান যে, নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য এখন কোনোভাবেই সময় অপচয় করার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, কেবল আর্থিক বরাদ্দ দিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান এসব জটিল মানবিক সংকট পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দুর্গত এলাকায় বাধাহীনভাবে ত্রাণ পৌঁছানোর পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সহায়তার প্রবেশপথে থাকা সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

সহায়তার এই বিশাল বাজেটের বাইরেও বিশেষ অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতকে যুক্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চিহ্নিত ১২টি সংকটাপন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে আরও ১ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিশেষ সহায়তার ফলে বিশ্বব্যাপী চলতি বছর এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তহবিল থেকে প্রদান করা মোট সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ মনে করে, বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *