খুবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাদক সংক্রান্ত বহিষ্কারের একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য শেয়ার করার পর থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয় যা পরবর্তীতে সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল এলাকার বাসিন্দা সজল নামের এক যুবক তিন শিক্ষার্থীর গাঁজা উদ্ধার ও বহিষ্কারের ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে একটি উসকানিমূলক পোস্ট দেন। ওই পোস্টে শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় যা দ্রুত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। ফেসবুকের এই পোস্ট দেখে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে ওই যুবককে ক্যাম্পাসের খাজা হল এলাকায় দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে হলের ভেতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শিক্ষার্থীরা ওই যুবককে আটকে রাখার খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন হলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান কিন্তু ব্যর্থ হন। এর ফলে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং তা পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে গড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষার্থীরা আটক যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন দুই ব্যক্তিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *