পুত্রবধূকে ‘চাকরি না দেওয়ায়’ বিদ্যালয়ে তালা দিলেন দাতা সদস্য, মাঠে লাগালেন কলাগাছ

বিদ্যালয়ে চাকরি না পাওয়ার জেরে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক দাতা সদস্য। নিজের পুত্রবধূকে বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দিতে না পারা এবং মূল প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলে তিনি এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। ঘটনার সুত্রপাত হয় যখন ওই ব্যক্তি দেখতে পান যে তার পরিবারের সদস্যকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না এবং বিদ্যালয়ের নামকরণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ক্ষোভের বশে তিনি স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং প্রধান ফটক সংলগ্ন মাঠে বেশ কিছু কলার চারা রোপণ করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দাতা সদস্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে হট্টগোল শুরু করেন এবং কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। একপর্যায়ে তিনি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও মাঠের ভেতর জোরপূর্বক কলাগাছ রোপণ করে ফেলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দাতা সদস্যের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা ও অভিভাবকরা এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাতা সদস্যের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ওই দাতা সদস্যের পুত্রবধূকে ইতিমধ্যেই যথাযথ নিয়মের মাধ্যমেই বিদ্যালয়ে চাকরি প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে বিদ্যালয়ে তালা লাগানো এবং ভাঙচুরের চেষ্টা করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন ভিত্তিহীন অজুহাত তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। তারা তালা ভেঙে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেন এবং পুরো বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়টি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সুব্যবস্থাপনা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *