বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রেমের সম্পর্ক ভাঙার পরো তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বন্ধ করে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া বা ঘোস্টিংয়ের ঘটনা এখন বেশ পরিচিত। তবে এই পর্ব শেষ হওয়ার পরও অনেক সময় প্রাক্তনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন উপায়ে নজর রাখার প্রবণতা দেখা যায়। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অদ্ভুত আচরণকেই বলা হচ্ছে অরবিটিং, যা সম্পর্কের সমীকরণকে আরও বেশি গোলমেলে করে তোলে।
সম্পর্ক পুরোপুরি চুকে যাওয়ার পরও প্রাক্তনের এই ধরনের ডিজিটাল উপস্থিতি মানুষের মনে নানা ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। ইনস্টাগ্রামের স্টোরি দেখা, ফেসবুক পোস্টে লাইক দেওয়া কিংবা পুরনো স্মৃতির টানে হঠাৎ অনলাইনে উঁকিঝুঁকি দেওয়া—এসবের আসল অর্থ বোঝা বেশ কঠিন। এটি কি তবে পুরনো সম্পর্কে পুনরায় ফিরে আসার কোনো সুপ্ত ইঙ্গিত, নাকি বিষয়টি নেহাতই কৌতূহলবশত ঘটে থাকে, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।
এই ধরনের লুকোচুরি খেলা সম্পর্ক ভাঙার কষ্টকে আরও দীর্ঘায়িত করে এবং মানসিক শান্তি নষ্ট করতে বড় ভূমিকা রাখে। যখন কেউ প্রাক্তনের প্রতিটি অনলাইন কার্যকলাপ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে শুরু করেন, তখন তা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তোলে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এবং নতুন করে পথচলা শুরু করার প্রক্রিয়াটি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
এই ধরনের মানসিক টানাপোড়েন থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা সবসময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রাক্তনের এই ধরনের বিভ্রান্তিকর আচরণকে পাত্তা না দিয়ে বরং ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ব্লক করা বা আনফলো করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে মনকে শান্ত রাখা এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অনেকটাই সহজ হয়।


