কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি ব্যক্তিগত সফরে কুষ্টিয়া ভ্রমণকালে সন্ধ্যার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। প্রথমে তিনি বিখ্যাত রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে লালন আখড়াবাড়িতে গিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের গান উপভোগ করেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করেন। মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার ঠিক আগ মুহূর্তে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাজার থেকে বের হওয়ার সময় দুই নারী তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ জানান এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে ২০ থেকে ২৫ জন বিক্ষুব্ধ যুবক জড়ো হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে মানববলয় তৈরি করে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এই ধস্তাধস্তির সময় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং আক্রমণকারীরা মূল ফটকের সামনে রাখা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভেঙে ফেলে। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে পুরো তাণ্ডবটি সংঘটিত হয়।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা এই হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরাসরি দায়ী করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, তারেক রেজা ও হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর পেছনে বিএনপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে তাদের সংগঠন এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না।

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানান যে হামলার ঘটনা ঘটলেও গাড়ি ভাঙচুরের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ছিল না এবং নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। ইতিমধ্যে এই হামলার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যেখানে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যাচ্ছে। এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *