ছেলের হত্যার ৫১ দিনের মাথায় এবার বাবাকে গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিজের ছেলে জয় ঢালীকে হারানোর ৫১ দিনের মাথায় বাবা আক্তার ঢালীকেও প্রাণ হারাতে হয়েছে। উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের ঢালী বাড়িতে সম্প্রতি এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। নিহত আক্তার ঢালী স্থানীয় মৃত মতলব ঢালীর পুত্র এবং এর আগে ঘটে যাওয়া ছেলে হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। পরিবারের একের পর এক এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া খুন করা হয়েছে এবং এর পেছনে গভীর কোনো শত্রুতা রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি কাঠের বেঞ্চে বসে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। ঠিক সেই মুহূর্তে তিনটি থেকে চারটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত কাছ থেকে আক্তার ঢালীকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়, যার একটি গুলি তাঁর ডান কান ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এরপর এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে দুর্বৃত্তরা ফাঁকা আরও তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আকস্মিক এই হামলায় চারপাশের মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আক্তার ঢালীকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান যে, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পুলিশের হাতে আসছে এবং সেগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাতে একই এলাকায় শহীদের মোড়ের কাছে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ও গলা কাটা অবস্থায় নিহত হন আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালী। সেই ঘটনার পর পিতা আক্তার ঢালী নিজেই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন, যার বিচার প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো। এদিকে জয় ঢালীকে হত্যার পর পুলিশ তাঁকে অপরাধ চক্রের সদস্য বললেও, সম্প্রতি ছাত্রদল এক বিবৃতিতে তাঁকে নিজেদের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জয় ও তাঁর পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং তারা এই দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *