দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভিটাহীন অসহায় যুবক মিশন আচার্য। সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে তার শিক্ষক হওয়ার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো, যা স্থানীয় মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মিশন আচার্যের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষকতার স্বপ্ন নিয়ে এর আগে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। চরম দারিদ্র্য ও নিজস্ব কোনো বসতভিটা না থাকার কারণে তার জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তবে সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে তিনি নিজের অধ্যাবসায় ও মেধার জোরে শিক্ষক পদে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই মিশন আচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মেধা তালিকার ভিত্তিতে তার নাম আসার পর সমস্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়। নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী খুব শীঘ্রই তাকে নির্দিষ্ট কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে চাকরি পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মিশন আচার্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাকে যারা নানাভাবে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই চাকরি পাওয়ার ফলে তার জীবনের কঠিন সংগ্রাম কিছুটা হলেও সহজ হবে এবং তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও তার এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেছেন।


