আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ রাত

দুই দশকের বর্ণিল বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন আধুনিক ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর ধরে নিজের জাদুঝলক দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করা এই মহাতারকাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত গোটা আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে এক গভীর আবেগ ও বিষাদের আবহ।

ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মাঝে টিকিটের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল এবং ছাড়পত্র পাওয়ার মাত্র নব্বই মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত থাকা পঁচাশি হাজার দর্শক ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি মনোযোগ দেবেন মাঠে মেসির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার জন্য। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবল উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তির ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির শেষ নব্বই মিনিট চাক্ষুষ করতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত। ফলাফল যাই হোক না কেন, এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

২০০৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে মেসির এই দীর্ঘ পথচলা শুরু হলেও সেই যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নানা সমালোচনা এবং বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে বারবার হেরে যাওয়ার হতাশা তাঁর গায়ে তকমা সেঁটে দিয়েছিল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল কিংবা পরপর দুই কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, দেশের জার্সিতে বুঝি তাঁর ট্রফিহীন ক্যারিয়ারই সমাপ্ত হবে। তবে সব বাধা পেরিয়ে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে সেই হতাশার বৃত্ত ভাঙেন তিনি, যা পরবর্তীতে ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মতো মহাকাব্যিক অর্জনে রূপ নেয়।

আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল জার্সিতে এটি তাঁর ২০৮তম ম্যাচ হতে যাচ্ছে, যেখানে তিনি দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ডের অধিকারী। বেনিনের বিপক্ষে এই বিদায়ী ম্যাচের আগে প্রীতি ম্যাচগুলোতে দল বড় ব্যবধানে জয় পেলেও বর্তমান আলোচনার পুরো আলো কেড়ে নিয়েছে মেসির এই মহাপ্রস্থান। এই ম্যাচের পর আর কখনো তাঁর বাঁ পায়ের বাঁকানো শট, রক্ষণ ভেদ করা পাস কিংবা জাদুকরি ড্রিবলিং দেখা যাবে না দেশের জার্সিতে। এই বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ জার্সিও তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, যা এই ঐতিহাসিক সমাপ্তিরই প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *