জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সংসদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে দেশের মসজিদগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সকল মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি মসজিদে রুফটপ বা ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল এমপির সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। হজ ব্যবস্থাপনা ছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নানামুখী কার্যক্রম বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়েও সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনার পর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষ করে সরকারি খরচে হজ পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হাসপাতাল ও বিভিন্ন মিশনে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্রুত বদলি করার সুপারিশ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে অধিক গতিশীলতা আসবে।
উক্ত সংসদীয় বৈঠকে কমিটির বিভিন্ন সদস্যসহ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন অধিদপ্তর, ট্রাস্ট ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কমিটিকে সহায়তা করেন। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার প্রত্যয় নিয়ে সমাপ্ত হওয়া এই বৈঠক থেকে দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


