জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের যুদ্ধাহত ও খেতাবপ্রাপ্তসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতদিন ধরে নতুন তালিকাভুক্তির জন্য যে আবেদন প্রক্রিয়া চালু ছিল, তা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আর নতুন কোনো আবেদন জমা নেওয়া হবে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আবেদন গ্রহণের পর্বটি স্থায়ীভাবে সমাপ্ত হলো।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জমা পড়া সমস্ত আবেদন অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অতীতে যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ভুয়া বা অ-মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এই পবিত্র তালিকা থেকে বাদ দিতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ভাতার অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কেবল প্রকৃত এবং পরীক্ষিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামই চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অতীতে তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে অসন্তোষ বা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের আশা, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা জাতির সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
খুব শীঘ্রই এই যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সকল সম্মাননা ও সুযোগ-সুবিধা আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে লাভ করবেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার এই কঠোর উদ্যোগে দেশজুড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।


