গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন সময়ে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি কেবল নবায়ন না করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে করার জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি রাজধানীর পলাশী চত্বরে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এই দাবি উত্থাপন করেন। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পানিবণ্টন চুক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে দেশ। আবরার ফাহাদ সবসময় যে ন্যায্যতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন যে, শুধু পানি বণ্টনের হিসেব কষলেই চলবে না, অভিন্ন নদীগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্বও নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পানির সুনির্দিষ্ট প্রবাহ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এনসিপি নেতা জানান, আসন্ন চুক্তিতে অবশ্যই গ্যারান্টি ক্লজ বা সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তার ধারা রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দিলে তা যেন ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশ সমানভাবে বহন করে, সেই বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টনের দাবি জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ভারত যদি প্রকৃত অর্থেই বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তিস্তাসহ সব নদীর পানির নায্য হিস্যা প্রদান করতে হবে।

ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা নয় বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই গঙ্গার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে পানির নায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে অমীমাংসিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সব চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জাতীয় সংসদে তা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান তিনি। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিক সফর কিংবা বৈঠক নয়, বরং দেশের স্বার্থ কতটুকু রক্ষিত হলো তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।

আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর লেখালেখির মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অসম সম্পর্কের বিরোধিতা। তাই তাঁর হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে বরং জাতীয় স্বার্থ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন তিনি। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে যে ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় তাঁর পিতা মো. বরকতউল্লাহসহ বিশিষ্ট চিন্তক ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *