কায়রোতে অনুষ্ঠিত হলো আওসবি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

প্রবাস ডেস্ক: মিশরের রাজধানী কায়রোতে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ, মিশর-এর উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বিশেষ সেমিনার। সম্প্রতি কায়রো শহরের নাদিউজ জাহির হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অংশ নেন। শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংগঠনের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল বাসেত নাদীমের সঞ্চালনায় অতিথিরা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এতে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন, প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল আজিজ তরফদার ও আব্দুর রহমান মোতালেব এবং সেক্রেটারি মিসবাহুল হক মেরাজীসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ থেকে আল-আযহারের স্কলারশিপে আগত উচ্চতর দাঈ-খতিব ও ফতোয়া গবেষক দলের প্রধান এবং সাংবাদিক আলী হাসান তৈয়ব। বক্তারা প্রবাসে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠন এবং নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা শতাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডি, এমফিল ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী এবং পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখলকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও সংগঠনের সভাপতি। বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ থেকে আগত ছয়জন সম্মানিত ইমাম এবং দশ কিরাতের সনদ অর্জনকারী কারি রায়হান উদ্দিনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় পুরো মিলনায়তনে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের মুখে সাফল্যের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের রেকর্ডসংখ্যক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এই চমৎকার আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রবাসে শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আবদুর রহমান নওয়াব বার্ষিক কার্যবিবরণী তুলে ধরে সকলকে প্রবাসজীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পরিশেষে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *