প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনটিসি

অর্থনীতি ডেস্ক: বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ এবং পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ততম নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ দপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্যই এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই জাতীয় স্বার্থহানি এবং রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল এই বিদেশি অপারেটর নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল।

<প>চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালের আধুনিকায়ন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করলেও এর সার্বিক মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা বাংলাদেশ সরকারের হাতেই থাকবে। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন ও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রথম দশ বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, চুক্তি সই এবং কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে অগ্রিম ফি বাবদ মোট ছয়শ কোটি টাকা প্রদান করবে। পাশাপাশি, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে নির্ধারিত রয়্যালটি এবং বার্ষিক নির্দিষ্ট ফি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আর্থিক সুবিধা পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

<প>চুক্তি সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এবং বন্দর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে এবং দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ের বাইরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের ব্যানারে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, যাতে সিপিবি ও বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আহত হন। বামপন্থী জোটের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।<প>অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরাও এই ইজারা চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের প্রচলিত নিয়মে যথারীতি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও দেশের নিজস্ব সরকারি মানদণ্ড সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *