হাসপাতালে বিশ্রামাগার নেই, ভোগান্তিতে স্বজনেরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র পাবনা মানসিক হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সাত দশক পেরিয়ে গেলেও এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় কোনো ধরনের বিশ্রামাগার বা থাকার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অথচ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন। পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে।

বর্তমানে পাঁচশ শয্যার এই হাসপাতালে বহির্বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে কেবল একটি পুরোনো ও ছোট ভবন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত একশ থেকে দেড়শ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বহু দূর থেকে আসা এসব মানুষ অনেক সময় আগের রাতে কিংবা গভীর রাতে এসে গন্তব্যে পৌঁছান। কিন্তু হাসপাতালে রাত্রিযাপনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় তাদের খোলা আকাশের নিচে, গাছতলায় কিংবা হাসপাতাল সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় রাত কাটাতে বাধ্য হতে হয়। এমনকি দিনের বেলাতেও বসার সুনির্দিষ্ট জায়গা না পেয়ে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় স্বজনদের।

সম্প্রতি বরিশাল, খুলনা ও মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগী নিয়ে আসা একাধিক স্বজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের এই চরম কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে। ট্রেন বা বাসের দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে পাবনায় পৌঁছে থাকার জায়গার খোঁজে তাদের হত্রভম্ব হয়ে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক স্বজনদের নিয়ে এই দুর্গম পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানে একটি মানসম্মত বিশ্রামাগার বা ডরমিটরি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

রোগী ও স্বজনদের এই চরম দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি নিরসনের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রোগীদের জন্য উন্নত ওয়ার্ড এবং তাদের সঙ্গে আসা স্বজনদের থাকার সুবিধার্থে আলাদা হলরুম বা ডরমিটরি নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় মানুষগুলোর এই ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *