এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে কীভাবে?

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। উৎপাদক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের প্রবণতা রয়েছে। আর ব্যবসায়ীদের এই অতিরিক্ত মুনাফা লোটার মানসিকতাই বাজারে চলমান গ্যাস সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাপ্লাই চেইনের একেবারে গোড়া থেকে শুরু করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাম বাড়ানোর মহোৎসব চলছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটছেন।

নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারির অভাবে এই চক্র দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়িয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এই অনিয়ম রোধ করা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনৈতিক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবেই এলপি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস কিনতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *