গণিত অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি কীভাবে নেবে?

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের অন্যতম সফল গণিতবিদ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পুরস্কারজয়ী শিক্ষার্থী নাফিজ গণিত অলিম্পিয়াডের দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নানা কৌশল তুলে ধরেছেন। পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে টানা ছয়বার জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়া এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে তিনি এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই কেবল এই অলিম্পিয়াডে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

প্রাথমিক ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন নিজে নিজে সমাধান করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সহজেই এসব প্রশ্ন সংগ্রহ করা সম্ভব এবং নিজের ক্লাসের বইয়ের পাশাপাশি উচ্চতর ক্লাসের পাঠ্যবইও আয়ত্ত করা যেতে পারে। কোনো সমস্যার সমাধান আটকে গেলে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সঙ্গে সঙ্গে আয়ত্ত করে নিতে হবে, যা পরবর্তীতে বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।

জুনিয়র ক্যাটাগরিতে এসে শিক্ষার্থীরা নিজ ক্লাসের গণ্ডি পেরিয়ে নবম ও দশম শ্রেণির গণিত বই এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন অনুশীলনের সুযোগ পায়। আমেরিকার এএমসি কিংবা বিভিন্ন দেশের অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগ্রহ করে নিয়মিত চর্চা করা উচিত। এছাড়া বন্ধুরা মিলে আলাদা গ্রুপ তৈরি করে সমস্যার সমাধান করলে কিংবা গণিত বিষয়ক বিভিন্ন সহায়ক বই পড়লে জটিল বিষয়গুলো আয়ত্ত করা সহজ হয়।

সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড, এশিয়া প্যাসিফিক গণিত অলিম্পিয়াড কিংবা ইরানিয়ান কম্বিনেটরিক্সের মতো প্রতিযোগিতার প্রশ্নগুলো সমাধান করার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করা যায়। জ্যামিতি, কম্বিনেটরিক্স, সংখ্যাতত্ত্ব ও বীজগণিতভিত্তিক বিশেষায়িত বই পড়ার সময় প্রথমবার কঠিন ঠেকলেও হতাশ না হয়ে কিছুদিন বিরতি দিয়ে পুনরায় চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন এই সফল প্রতিযোগী। মূলত কোনো ভীতি না রেখে প্রচুর পরিমাণে সমস্যা সমাধান করা এবং সঠিক অনুশীলন পদ্ধতি অনুসরণ করাই গণিত অলিম্পিয়াডে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *