জাতি গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

জাতীয় ডেস্ক: জাতি গঠনে দেশের তরুণ সমাজকে আরও জোরালো ও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম। সম্প্রতি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক বিশেষ গেস্ট লেকচারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশ গঠন ও জাতীয় সুরক্ষায় তরুণদের জ্ঞানচর্চা, দেশপ্রেম এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তা কেবল দেশের সীমান্ত সুরক্ষার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত। মানবিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এখন জাতীয় নিরাপত্তার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। এই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে জাতীয় অগ্রগতিতে শরিক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ওই আন্দোলনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলন চলাকালে রাজপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং সহপাঠীদের সুরক্ষায় তাদের নিবেদন ছিল অসামান্য বীরত্বের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই তরুণদের আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধ লড়াই ২৪-এর জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার পতনে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঐতিহাসিক শক্তি জুগিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং দেশপ্রেমের চেতনায় বলীয়ান হয়ে তরুণরাই আগামী দিনে যেকোনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করবে। দেশের তরুণরাই তাদের মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *