৫০০ উপজেলায় যাচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে দেশের মোট ৫০০টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ও একে জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে মোকাবিলা করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান সময়ের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন যে মানসিক স্বাস্থ্য এখন সারা বিশ্বেই একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান যুগের যুদ্ধ-সংঘাত, দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা, তীব্র একাকিত্ব এবং প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক ও গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অনেকে মারাত্মকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে দেশের তরুণ সমাজ এবং কিশোর-কিশোরীরা এই মানসিক সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন যে মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা যেকোনো সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব। অতীতে মানুষের মর্যাদাহানি ও অধিকার লঙ্ঘনের যে পটভূমি তৈরি হয়েছিল, তার ফলেই মূলত তীব্র গণপ্রতিরোধের জন্ম হয়েছে। সমাজে মানবিক মর্যাদা বজায় না থাকলে যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং দেশ আর সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে কেবল বড় বড় ভবন নির্মাণ বা কোটি টাকার দামি যন্ত্রপাতি কেনার মধ্যেই উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। দক্ষ জনবল ছাড়া কখনোই কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং এই গতানুগতিক উন্নয়নচর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবাকে জেলা ও উপজেলা স্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতেই এই নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। তবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই সেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবলের যথেষ্ট সংকট রয়েছে এবং এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উচ্চতর ডিগ্রি দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করে তিনি কারিগরি কোর্স চালুর তাগিদ দেন। প্রকৌশল খাতের মতো মানসিক স্বাস্থ্য খাতেও কয়েক বছর মেয়াদি ভকেশনাল ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে দক্ষ মধ্যম পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করতে হবে, যারা তৃণমূল পর্যায়ে থেকে মানুষকে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *