হাফেজিয়া মাদরাসায় তিন ছাত্রকে বলাৎকার, শিক্ষক কারাগারে

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় কোমলমতি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে তিন ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসায় অবস্থান করে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের দানা বাঁধে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান আলী বিভিন্ন অজুহাতে মাদরাসায় অধ্যয়নরত ওই তিন ছাত্রকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করতেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক নিগৃহীত হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে বিষয়টি নিজেদের পরিবারকে খুলে বলে। পরিবারের সদস্যরা এমন অমানবিক নির্যাতনের কথা শোনার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার দাবি করেন এবং বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করতে সক্ষম হয়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খানপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মাদরাসা থেকেই তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের করা নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার দুপুরে পুলিশি নিরাপত্তায় কড়া প্রহরায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান যে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ আছে কি না, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত সত্যতার ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *