আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পিএইচডিধারী শিক্ষক ও দক্ষ গবেষকের ঘাটতি দূর করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত তিন হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সম্প্রতি সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে আয়োজিত এক বিশেষ সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউজিসির শীর্ষ কর্মকর্তা এসব তথ্য তুলে ধরেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর ফেলোশিপের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী বছর তা আরও বাড়িয়ে ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নত করতে গবেষণার ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং হিট প্রকল্পের আওতায় এ খাতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অনুদান বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য উপপ্রকল্পগুলো নির্বাচিত করা হবে। গবেষণা প্রস্তাবের গুণগত মান, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং জাতীয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এর সম্ভাব্য অবদানকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশে মানসম্মত গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক ও ফলপ্রসূ গবেষণাকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হিট প্রকল্পের আওতায় প্রভাষক থেকে শুরু করে অধ্যাপক পদমর্যাদার পাঁচ হাজার শিক্ষককে পেশাগত উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন এবং কোষাধ্যক্ষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অনেকেরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকে না, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গাজীপুরে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য এই একাডেমিতে তিন থেকে ছয় মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং ঢাকার বাইরেও আরেকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কেন্দ্রকে কেবল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, সরকারি নীতিন্ধারক এবং শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে বহুমাত্রিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রের ব্যবধান ঘুচে যাবে এবং উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সফলভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে ইউজিসি প্রত্যাশা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *